রবিবার ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকিতে, নতুন বিধিমালা নিয়ে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ | 68 বার পঠিত | প্রিন্ট

৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকিতে, নতুন বিধিমালা নিয়ে উদ্বেগ
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: সদ্য বিদায়ী বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্বে প্রণীত নতুন মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা দেশের মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিনিয়োগকারীদের সংগঠনের নেতারা। তাদের দাবি, প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট এই খাতে নেওয়া নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে আগামী এক বছরের মধ্যে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তারা বিতর্কিত মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা বাতিলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন’-এর নেতারা এসব দাবি উত্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Responsive Ad Banner

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিদায়ী কমিশনের সময়ে মিউচুয়াল ফান্ড, মার্জিন ঋণ ও আইপিও–সংক্রান্ত একাধিক বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, যা তাদের মতে বাজারের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে ‘মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০২৫’-এর কয়েকটি ধারা বিনিয়োগকারী এবং সামগ্রিক বাজার উভয়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে তারা মন্তব্য করেন।

তাদের অভিযোগ, নতুন বিধিমালায় বিদ্যমান মেয়াদি (ক্লোজড-এন্ড) মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে অবসায়ন (লিকুইডেশন) অথবা বাধ্যতামূলক পুনর্গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এই বিধান কার্যকর হলে শেয়ারবাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হবে, যা বাজারে বড় ধরনের দরপতনের কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এই খাতসংশ্লিষ্ট হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

বিনিয়োগকারী নেতারা আরও বলেন, বিধিমালায় দুই-তৃতীয়াংশ ইউনিটধারীর ভোটের মাধ্যমে মেয়াদি ফান্ডকে রূপান্তর কিংবা অবসায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু যারা ফান্ডগুলোকে বর্তমান কাঠামোয় বহাল রাখতে চান, তাদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ বিনিয়োগকারী মিউচুয়াল ফান্ড খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই বিপুল বিনিয়োগ একযোগে অবসায়ন বা পুনর্গঠনের আওতায় এলে বাজারে অতিরিক্ত শেয়ার সরবরাহ সৃষ্টি হবে। দুর্বল চাহিদার বাজারে এমন পরিস্থিতি সূচকের বড় ধরনের পতনের কারণ হতে পারে এবং আরও অনেক বিনিয়োগকারী বাজার থেকে সরে যেতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবিবেচনাপ্রসূত বিভিন্ন নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের কারণে দেশের পুঁজিবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনের কাছে তাদের প্রথম দাবি হচ্ছে ‘মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০২৫’ স্থগিত অথবা বাতিল করা।

এ সময় তারা আরও অভিযোগ করেন, বিদায়ী কমিশনের ২১ মাসের মেয়াদে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করা হলেও আদায় হয়েছে মাত্র প্রায় ৫ কোটি টাকা। এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে অতীতের পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত অনিয়ম ও ব্যর্থতার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা, সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, বিতর্কিত নীতিমালা স্থগিত, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের বিনিয়োগকারীদের অধিকার সুরক্ষা, কারসাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি।

Facebook Comments Box

Posted ৫:২৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

sharebazar24 |

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  
মো. সাজিদ খান প্রধান সম্পাদক
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com